সাল ১৯৬৯ । পরীক্ষার্থী ছিলাম কারণ বশত: পরীক্ষা ড্রফ করে দিলাম। শোরশাকে অবস্থিত চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই এবং তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ৩. নির্বাচিত হই। সারা পূর্ব পাকিস্তানে তখন ছাত্র আন্দোলন তুঙ্গে। এবার আমি রাগৈ উচ্চবিদ্যালয়ের ১ম দিকের ছাত্র। রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ম রুপরেখা তৈরি করেছিলাম দঃ রাগৈ নিবাসী আবু মাষ্টার সাহেব এবং সমর্থন দেন আহম্মদ রাজা সাহেব। কিন্তু তাদের মহৎ চেষ্টা সফল হয়নি। আরো একটু পিছনে না গেলে বুঝতে কষ্ট হবে রাগৈ স্কুল কিভাবে প্রতিষ্ঠা হলো।
চেড়িয়ার উচ্চ বিদ্যালয় কিভাবে শোরসাকে প্রতিষ্ঠা হয় এবং সেখানে থেকেই রাগৈতে একটি স্কুল তৈরির স্বপ্ন দেখে রাগৈ বাসী।শোরসাকের আব্দুল খালেক মজুমদার, চেড়িয়ার আঃ জব্বার পন্ডিত সাহেব রাগৈ হাজিবাড়ি আঃ হামিদ পাটোয়ারী হাড়াইপাড়া এবং আরো গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আব্দুল খালেক মজুমদার সাহেবের নেতৃত্বে শোরসাকে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত হয় এবং ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করা হয়। তখন ২/১ জন বিরোধিতা করেন এবং বিদ্যালয়টি শোরসাক না হয়ে রাগৈতে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি রাগৈ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয় নাম করণ করেন এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে আব্দুল লতিফ সহ ক্লাস চালু করেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন।
শুরু হলো মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে। মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি দেশ “মা” কে শত্রুর হাত থেকে মুক্তি করার জন্য। রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয় এর স্বপ্ন তখন স্থগিত। সাল ১৯৭২ চেড়িয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক জনাব আব্দুর রশিদ খান সাহেব এর সাথে এলাকার কিছু লোকের সাথে মতবিরোধ চলছিল এবং একসময় তা মারাত্মক রুপ নেয়। এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ের ম্যানিজেং কমিটি গঠন নির্বাচন চলে আসে।
মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীতে যখন স্কুলটি চালু হয় তখন আমি আমার বন্ধুমহল ও কাছের ছোট ভাইদের নিয়ে আমরা আলোচনাই বসি উল্লেখযোগ্য বিশেষ করে সিদ্দিকুর রহমান, মুজাম্মেল হক কাজী, দেলোয়ার হোসেন পাটঃ, ইউসুফ চৌধুরী, আবুল খায়ের পাটঃ, জয়ানাল আবেদীন পাটঃ, মাইনুদ্দিন চিশতী, বখতিয়ার, দেলোয়ার হোসেন (কালু)। আব্দুল মান্নান, নুরুল ইসলাম প্রমুখ সহ তৎকালিন প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানিজিং কমিটির বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিতকাঙিক্ষদের পক্ষ অবলম্বন করে এবং আমরা ঐ আলোচনায় আমাদের মনে আবার রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয় গড়ার স্বপ্ন জাগে কারণ দুই তৃতীয়াংশ রাগৈ, লোটরা, শিমুলিয়া, দিগধাইরা, কেশাংরাঙ্গা, দশনাপাড়ার ছাত্র।
আমাদের এই স্বপ্নের কথা আমাদের বড় ভাই জনাব ইউসুফ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মাষ্টার, আব্দুল ছোবাহান আমীর, জনাব হারুনুর রশিদ তপদার, আবুল হাসেম পাটঃ আহম্মদ হোসেন দেওয়ান সাহেবের নিকট উপস্থাপন করি। চেড়িয়ারা উচ্চবিদ্যালয়ের নির্বাচনে আমাদের পক্ষ জয়ী হয় কিন্তু প্রতিপক্ষ তা মেনে নেননি এবং হট্টগোল শুরু করে, এমন অবস্থায় জনাব আব্দুল জব্বার পন্ডিত সাহেবের ঘোষণা মোতাবেক চেড়িয়ার উচ্চ বিদ্যালয় পূনরায় চেড়িয়ারায় নিয়ে যাওয়ার পক্ষে সমর্থন দেই। যে কথা সেই কাজ, বিদ্যালয়ের প্রযোজনীয় নথিপত্র নিয়ে চেড়িয়ারায় চলে যাই এবং নির্ধারিত স্থানে সব জমা রাখি। এ অবস্থায় আমি এস.এস.সি পরীক্ষা দেই। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বাঘের কোনায় জব্বার পন্ডিত সাহেবে জায়গায় ভিত্তি স্থাপন করেন জব্বার সাহেব কে সহযোগীতা করেন জনাব আঃ কাদের সাহেব, আজিজুল হক মাষ্টার সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এরপর চেড়িয়ারা বাসী কয়েকদফা ব্যক্তিগত ভাবে বৈঠক করে, আমাদের সংবাদ জানায় যে, রাগৈতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন জব্বার সাহেব ও আব্দুল হাই মোল্লা সহ আমাদের জানান ছাত্র-ছাত্রী এবং অন্য সব দিক দিয়ে আপনাদের সহযোগিতা করবো। একথায় অনুপ্রানিত হয়ে রাগৈ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রাগৈতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত যোগাযোগ শুরু করেন। উল্লেখযোগ্য, শামসুউদ্দিন সর্দার (ভুলু), নুরুল ইসলাম মাষ্টার, হাজী এয়াকুব, হাজী আলী আকবর, আব্দুর রহমান, মোঃ বাদশা মিয়া, আলী আকবর তালুকদার, আব্দুর রব তালুকদার, ছেরাজুল হক তালুকদার, হারুন নুররশিদ সর্দার, দেলোয়ার হোসেন পাটঃ, সেফাত উল্লা পাটঃ, মালেক পন্ডিত, আব্দুল লতিফ, আতর আলী তপদার, আব্দুল রাজ্জাক মোল্লা, আব্দুল ওহাব সর্দার সহ গ্রামের আরো গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সকল শ্রেণির পেশার মানুষ সহযোগিতা করেন। শুরু হয় স্থান নির্ধারনের অভিযান।
রাগৈ তালুকদার বাড়ি ও দক্ষিণ নোয়াবাড়ি এই দুই বাড়ি জমির উপর স্থাপিত হয় রাগৈ মানুষের স্বপ্নের বিদ্যালয় “রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয়”, সাল ০১-০১-১৯৭২। এরপর একটু কথা না বল্লেই নয়, প্রথম অর্থ যোগান দেন জনাব নুরুল ইসলাম মাষ্টার সাহেবের চাচা ইদ্রিস সাহেব লেন্ডন প্রবাসী)। এভাবে সকল শ্রেণির মানুষ অর্থ, শ্রম, বাঁশ, কাঠ, মুষ্টি চাল, এমনকি মাটি কেটেও সহযোগিতা করেন। প্রশংসার দাবীদার কালজয়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুল রশিদ খান সাহেব, জনাব অলিউল্ল্যা পাটওয়ারী প্রেধান শিক্ষক, মতলব) মাওলানা রুশদী সাহেব, জনাব আব্দুল খালেক মজুমদার সাহেব এর পরামর্শে এবং নো অবজেকশন সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি এম.পি.ও ভুক্ত হয়।
রাগৈ গ্রামের মানুষের স্বপ্নের স্বার্থক হয় ০১-০১-১৯৭২ রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিতের মাধ্যমে। আমি হাজী আব্দুর রশিদ, আমার লেখায় যদি কারো নাম বাদ পড়ে যায় এবং ভুল-ত্রুটি গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। বয়সের চাপে অনেকের নাম আমি ভুলে গিয়েছি তবে নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানানোর একটু চেষ্টা মাত্র।
শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি রাগৈ উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সকল শ্রেণি সকল মানুষকে যাদের অবদানে আজকে রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বর্তমান সকল শিক্ষকমন্ডলী অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলাফল স্বরুপ শাহ্রাস্তি উপজেলার সবচেয়ে সফল বিদ্যালয় হিসেবে রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচিতি পেয়েছে। আমি ধন্যবাদ জানাই আবু ইউসুফ, শাহ্ মিরান, মাসুদ, নাজির সহ সকল উদ্যোগতাদের এই মহতী অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য।
বীরমুক্তিযোদ্বা জনাব হাজী মো. আব্দুর রশিদ
বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী
ডোনার সদস্য, রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয়
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বিদ্যালয় কতৃপক্ষ
কারিগরি সহায়তায় :
ফ্রিডম আইটি ইনস্টিটিউশন
প্রয়োজনে : 01720-164995